যুক্তিহীন বা বুদ্ধিহীন বিচারে ধর্মের হানি বা ক্ষতি সাধিত হয়
"কেবলং শাস্ত্রমাশ্রিত্য ন কর্তব্যো বিনির্ণয়ঃ।
যুক্তিহীনবিচারে তু ধর্মহানিঃ প্রজায়তে।।"
-------[বৃহস্পতি স্মৃতি/ ব্যবহার কান্ডম্/ ১১৪ তম শ্লোক]
— যুক্তিহীন বা বুদ্ধিহীন বিচারে ধর্মের হানি বা ক্ষতি সাধিত হয় ।
এই সংস্কৃত শ্লোকটি বৃহস্পতি সংহিতা (বা বৃহস্পতি স্মৃতি) থেকে নেওয়া হয়েছে, যা কোনো ব্যক্তির শুধু কথার উপর নির্ভর করে অন্ধ অনুকরণ/গ্রন্থ পড়ে বা তার দোহাই দিয়ে নয়, বরং যুক্তিনির্ভর শাস্ত্রের বিচারের কথা বলে। এর অর্থ হলো: কেবল কোনো ব্যক্তির শুধু কথার উপর নির্ভর করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়; কারণ যুক্তিহীন বিচারে ধর্মের হানি হয়।
"যুক্তিহীন বিচারে তু ধর্মহানি প্রজায়তে" হলো বৃহস্পতি স্মৃতি (ব্যবহার কান্ডম্, ১১৪ শ্লোক) থেকে উদ্ধৃত একটি বিখ্যাত নীতিবাক্য,
যার অর্থ—যুক্তি বা বিচার বিবেচনা ছাড়া কেবল অনুসরণ করলে ধর্মের হানি বা ক্ষতি হয় ।
এর অর্থ হলো অন্ধবিশ্বাস ত্যাগ করে শাস্ত্রের যুক্তি দিয়ে সত্য বা ধর্ম নির্ণয় করা উচিত, শুধু কোনো ব্যক্তির শুধু কথার উপর নির্ভর করে অন্ধ অনুকরণ/গ্রন্থ পড়ে বা তার দোহাই দিয়ে দোহাই দিয়ে নয় ।
কোনো কিছু বিশ্বাস করার আগে তা শাস্ত্রের যুক্তিসঙ্গত কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
যদি কোনো কিছু প্রথা হিসেবে চলে আসছে কিন্তু তা যুক্তি ও হিতবোধের বিরোধী, তবে তা অনুসরণ করলে প্রকৃত ধর্মের বা নীতিবোধের ক্ষতি হয় ।
অন্ধবিশ্বাস বা অন্ধ আনুগত্য কখনোই সঠিক পথ দেখাতে পারে না, বরং তা 'ধর্মহানি' বা নীতিবোধের বিনাশ ঘটায়। অর্থাৎ,শুধু কোনো ব্যক্তির শুধু কথার উপর নির্ভর করে অন্ধ অনুকরণ/গ্রন্থ পড়ে - সেই কথাকে যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই করেই গ্রহণ করা উচিত।
এই বাক্যটি অন্ধবিশ্বাস বর্জন করে শাস্ত্রের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কর্ম / চিন্তা / বিচার করা উচিত ।