দেবী স্বপ্নাবতী
দেবী স্বপ্নাবতী নিদ্রার অধিষ্ঠাত্রী দেবী এবং এই কারণে তিনি 'মৌঘাতিনী' নামেও পরিচিতা। দেবীর আভরণবিদ্যাদের মধ্যে অন্যতমা হলেন নিদ্রা দেবী। দেবী গজরুঢ়া,ষড়ভূজা ও নীলবর্ণা। দেবীর মস্তকে অর্ধচন্দ্র ও তক্ষকনাগ বিদ্যমান যার কপালে পরশমণি অবস্থিত , দেবী নানা অলঙ্কারে সুসজ্জিতা এবং তিনি পীতবর্ণের বস্ত্র পরিধানকরেন। দেবী স্বপ্নাবতী হলেন দেবী দণ্ডিনীর সহায়িকা ও অনুচরী শক্তি। দেবী দণ্ডিনীর ন্যায় ইনি পরাক্রমশালিনী,তেজময়ী ও বীর্যময়ী।
দেবী বামদিকের হস্তসমূহে ধনুক,পদ্ম ও হল এবং দক্ষিণদিকের হস্তসমূহে কুঠার,পাশ ও পাশুপতাস্ত্র ধারণ করেন। দেবীর ভৈরব হলেন মহাযোগেশ্বর। দেবীর বামহস্তসমূহের আয়ুধ বিষ্ণুতত্ত্ব ও দক্ষিণহস্তসমূহের আয়ুধ শিবতত্ত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। দেবীর আবির্ভাব হয় ভণ্ডাসুরের সহিত দেবী ললিতার যুদ্ধে। ভণ্ডাসুর ভলাকা সহ মোট ৭ জন অসুরকে যুদ্ধে প্রেরণ করেন যাদের কাছে মহাগনপতির সিঁদুরের রক্ষাকবচ থাকার কারণে দেবী দণ্ডিনী,তিরস্কারিনী আদি দেবীগণ অসুরদের পরাস্ত করতে অপারগ হন। তখন দেবী দণ্ডিনী ক্রোধান্বিতা হন এবং দেবীর দেহ হতে নীলবর্ণা দেবী স্বপ্নাবতী আবির্ভূত হন। দেবী দণ্ডিনী দেবী স্বপ্নাবতীকে সেই সকল অসুর বিনাশের পথ নির্দেশ করার আদেশ দেন। দেবী স্বপ্নাবতী অসুরদের স্বপ্নে আচ্ছন্ন করেন এবং তাদের স্বপ্ন দেখান যে তারা জলক্রীড়া করছেন। এরফলে মহাগণপতির সিঁদুর যা অসুরদের রক্ষাকবচ ছিল তা জলে ধুয়ে যায় এবং দেবী দণ্ডিনী সহ অন্যান্য দেবীগণ অসুরদের পরাস্ত করেন ও তাদের বধ করেন।
দেবী স্বপ্নাবতী সাধনা অত্যন্ত গুপ্ত ও গুরুগম্য।
দেবীর সাধনাতে কুণ্ডলিনী চক্র জাগরিত হয় এবং দেবীর আশীর্বাদে সাধকের আত্মতত্ত্বজ্ঞান লাভ হয়ে থাকে এবং সাধক সকল মোহ থেকে মুক্তিলাভ করেন।