নন্দী কে ?
মহাদেব শিবের বাহন নন্দী হলেন শিবের পরম ভক্ত, সততা, শক্তি এবং ইচ্ছাশক্তির প্রতীক ।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ঋষি শিলাদ শিবের তপস্যা করে এক অদম্য পুত্র লাভ করেন, যিনিই নন্দী।
শিব নন্দীকে অত্যন্ত জ্ঞানী ও আত্মনিবেদিত দেখে তাকে অমরত্ব প্রদান করেন এবং নিজের প্রধান অনুচর, কৈলাসের রক্ষক ও বাহন হিসেবে গ্রহণ করেন ।
নন্দী কেন শিবের বাহন, তার মূল কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
অগাধ ভক্তি: নন্দী কেবল বাহন নন, তিনি শিবের পরম ভক্ত। তাই তিনি সবসময় শিবের সেবায় নিয়োজিত।
ধর্ম ও শক্তির প্রতীক: ষাঁড় বা নন্দী হলো ‘ধর্ম’ বা সঠিক পথে চলার প্রতীক । শিব, যিনি ধ্বংস ও পুনর্গঠনের দেবতা, তার বাহন হিসেবে নন্দী ন্যায়পরায়ণতার ভারসাম্য রক্ষা করেন।
আত্মনিবেদন: নন্দী (যার অর্থ আনন্দ প্রদানকারী) শিবের প্রতি নিজের সম্পূর্ণ সত্তা সমর্পণ করেছিলেন। তার এই আত্মনিবেদনই তাকে শিবের সবচেয়ে কাছের করে তুলেছে।
জ্ঞান ও শিক্ষা: নন্দী ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী, যিনি স্বয়ং শিব ও সনৎকুমারের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।
দেশের সর্বত্রই শিব মন্দির দেখা যায়। আর এই সব মন্দিরের বাইরে থাকে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি। শিব মন্দিরের ভেতরে ঢোকার আগে মন্দিরের দরজার সামনে হাঁটু মুড়ে বসে থাকা নন্দীর দেখা মিলবেই। মনে করা হয় মহাদেবের বাহন হল নন্দী নামের এই ষাঁড়। বলা হয় শিবের বাসভবনের প্রবেশদ্বারের রক্ষীর দায়িত্ব পালন করে নন্দী।
মহাদেবের অন্যতম সহচর সে। তাই যেখানেই শিব, সেখানেই নন্দী। শাস্ত্র অনুসারে নন্দী হল পুরুষার্থ অর্থাত্ কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক। এখন প্রশ্ন হল কেন শিব মন্দিরের বাইরে সব সময় নন্দীর অবস্থান।
শিব মন্দিরে প্রবেশের আগেই দেখা মেলে নন্দীর। আর পূণ্যার্থীরা নন্দীর কানে ফিস ফিস করে তাঁদের মনের বাসনার কথা জানান। মনে করা হয়, নন্দীর কানে ফিস ফিস করে জানানো মনের বাসনার কথা নন্দী সরাসরি মহাদেবের কাছে পৌঁছে দেবে। কিন্তু কেন মহাদেবের এত প্রিয় এই কালো রঙের ষাঁড়? সে বিষয়েই এখন আলোচনা করব আমরা।
এই বিষয়ে পুরাণে একটা অত্যন্ত চমকপ্রদ গল্প রয়েছে। সমুদ্র মন্থনের পর অমৃতের ভাগ নিয়ে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে লড়াই বাঁধে। এই পরিস্থিতিতে অমৃতের পর আরও ভালো কিছু পাওয়ার আশায় সুমুদ্র মন্থন চালিয়ে যাওয়া হয়। অমৃতের পর তখন সমুদ্র গর্ভ থেকে উঠে আসে ভয়ানক বিষ কালকূট। গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় সেই বিষের ঝাঁঝে। তখন সৃষ্টি রক্ষা করতে সেই বিষ নিজের গলায় ধারণ করেন মহাদেব। বিষ পান করার সময় কয়েক ফোঁটা চলকে বাইরে পড়ে যায়। তখন সেই কয়েক ফোঁটা বিষ জিভ দিয়ে চেটে নেয় নন্দী। নন্দীর এই কাজে খুশি হয়ে মহাদেব তাঁকে আশীর্বাদ করেন যে শিব ভক্তরা সবাই নন্দীকেও প্রণাম জানাবেন।
সব সময় মন্দিরের বাইরে শিব মূর্তির দিকে মুখ করে বসে থাকে নন্দী। নন্দীর চোখ যেমন মহাদেবের দিকে থাকে, আমাদের মনও তেমন সব সময় নিজের আত্মার দিকে থাকা দরকার। অন্যের ভুল আমরা সবাই দেখতে পাই, কিন্তু নিজেকে ভালো করে চিনতে শিখলে তবেই নিজের ভুলগুলোও চোখে পড়বে। আমাদের শরীর যখন নিজের আত্মার প্রতি উন্মুখ হয়ে থাকবে, তখনই আমাদের মন শুদ্ধ হবে।