বিষ্টি করণ বা ভদ্রা করণ
জ্যোতিষশাস্ত্রে বিষ্টি করণ (ভদ্রা নামেও পরিচিত) অত্যন্ত অশুভ ও অকার্যকর হিসেবে গণ্য হয়। এই করণে জন্ম নিলে ব্যক্তি উচ্চাভিলাষী ও চতুর হয়, তবে অনৈতিক কাজের প্রবণতা, বদনাম এবং বিবাহিত জীবনে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। এটি অশুভ যোগ হিসেবে পরিচিত, তাই নতুন বা শুভ কাজের জন্য এই সময় এড়িয়ে চলা উচিত। জ্যোতিষশাস্ত্রে বিষ্টি করণ, যা ভদ্রা নামেও পরিচিত, সাধারণত একটি অশুভ সময় হিসেবে গণ্য করা হয় ।
বৈদিক পঞ্চাঙ্গের 11টি করণের মধ্যে এটি সপ্তম অবস্থানে থাকে এবং এর অধিপতি হলেন শনি ।
বিষ্টি করণ বা ভদ্রা করণের মূল ফলাফল:----------
1. অশুভ সময়:
a) বিষ্টি করণকে "মৃত্যু করণ" বলা হয়, যা কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজের জন্য উপযুক্ত নয়।
b)শুভ কাজে নিষেধাজ্ঞা--> বিষ্টি করণ চলাকালীন শুভ কাজ যেমন—বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা বা যাত্রা বর্জন করা উচিত।
2. ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য: যাদের জন্ম এই করণে, তারা সাধারণত নির্ভীক, স্পষ্টবাদী এবং কিছুটা রাগী স্বভাবের হন । অনেক ক্ষেত্রে তারা অনৈতিক কাজের দিকে সহজেই আকৃষ্ট হতে পারেন এবং শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা থাকে ।
3. চরিত্র ও আচরণ: এই করণে জন্মগ্রহণকারীরা সাহসী ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলেও, তাদের মধ্যে অনৈতিক কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা থাকতে পারে।
4. কর্মক্ষেত্র ও অর্থ: এই জাতকরা কঠোর পরিশ্রমী হন এবং চিকিৎসার সরঞ্জাম বা ওষুধ সংক্রান্ত ব্যবসায় ভালো উন্নতি করতে পারেন । তবে অনেক সময় ভুল পথে অর্থ উপার্জনের চেষ্টায় সামাজিক সম্মানহানির ঝুঁকি থাকে ।
5. স্বাস্থ্য ও সম্পর্ক: বিষ্টি করণের প্রভাবে মাঝে মাঝে স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং অশান্তি দেখা দিতে পারে ।
6. ব্যক্তিগত জীবন: এদের চারিত্রিক অবিশ্বস্ততার কারণে বিবাহিত জীবনে কলহ বা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
7. বিষ্টি করণের প্রতিকারের প্রধান উপায়সমূহ: বিষ্টি করণের অশুভ প্রভাব কমাতে জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী সতর্কতামূলক প্রতিকার গ্রহণ করা যেতে পারে। এই করণের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে বিষ্টি করণ শান্তি পূজা বা ভগবান শিবের উপাসনা করা ফলদায়ক হতে পারে ।
a) ভদ্রা শান্তি পূজা: কোনো শুভ কাজ করার আগে বিষ্টি করণের অশুভ প্রভাব কাটাতে পণ্ডিতের পরামর্শে বিশেষ 'ভদ্রা শান্তি' পূজা বা অনুষ্ঠান করা ।
b) শিব আরাধনা: শিবের পূজা করা এবং মহাদেবকে জল নিবেদন করা বিষ্টি করণের অশুভ প্রভাব কমাতে অত্যন্ত কার্যকর বলে বিশ্বাস করা হয়।
c) দান ধ্যান: বিশেষ করে বুধবার বা ভদ্রা চলাকালীন অভাবী মানুষকে সবুজ শাকসবজি, মুগ ডাল বা কাপড় দান করা উচিত।
d) মন্ত্র জপ: শিব বা শিব-পার্বতী সম্পর্কিত মন্ত্র জপ করা মনে স্থিরতা আনে এবং অশুভ প্রভাব দূর করে ।
e) গোসেবা: বুধবারে গোমাতাকে সবুজ ঘাস বা ভিজানো সবুজ মুগ ডাল খাওয়ালে নেতিবাচক প্রভাব প্রশমিত হয় ।
f) সতর্কতা ও শুভ সময়: বিষ্টি করণে নতুন কোনো কাজ শুরু না করে, করণের প্রভাব শেষ হওয়ার পর শুভ মুহূর্ত দেখে কাজ শুরু করা ।
g)বিষ্টি করণে জন্মগ্রহণ করলে বা কাজ করতে গেলে এই প্রতিকারগুলো অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায় ।
8. ইতিবাচক দিক: ধ্বংসাত্মক কাজ বা শত্রুকে দমনের মতো কঠিন কাজের জন্য এই সময়টিকে উপযুক্ত মনে করা হয় ।
9.এই করণটি সূর্য কন্যা এবং শনির বোন হিসেবে পরিচিত, তাই একে উপেক্ষা করা বা বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা উচিত।
10. বিষ্টি করণ যখন চলে, তখন এটি একটি সতর্কতার লক্ষণ, তাই এই সময় ধৈর্য ধারণ করা এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেওয়াই শ্রেয়।