""অঙ্গারক যোগ দোষ (Angarak Yoga দোষ )""
জ্যোতিষশাস্ত্রে জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গল ও রাহুর মিলন বা দৃষ্টি বিনিময়কে অঙ্গারক যোগ (Angarak Yoga) বলা হয়, যা একটি অত্যন্ত অশুভ বা চ্যালেঞ্জিং যোগ হিসেবে গণ্য হয় ।
এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও নেতিবাচক যোগ হিসেবে বিবেচিত, যা মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড রাগ, হিংস্রতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণহীনতা, পারিবারিক কলহ এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় । "অঙ্গারক" শব্দের অর্থ জ্বলন্ত কয়লা; রাহুর প্রভাবে মঙ্গলের অগ্নিগুণ (রাগী ও সাহসী প্রকৃতি) বহুগুণ বেড়ে যায়, যা সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নষ্ট করে ।
এটি মূলত রাহু-মঙ্গলের মিলনকে "আগুনে ঘি" দেওয়ার মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যা রাগ, আগ্রাসন, অস্থিরতা, দুর্ঘটনা ও পারিবারিক বিরোধের কারণ হতে পারে ।
অঙ্গারক যোগের মূল প্রভাব ও ফলাফল:
1. আগ্রাসন ও মানসিক অস্থিরতা: এটি জাতকের মধ্যে প্রচণ্ড রাগ, জেদ এবং মানসিক অস্থিরতা বা উদ্বেগ বৃদ্ধি করে ।
2. বিবাদ ও দ্বন্দ্ব: পারিবারিক, কর্মক্ষেত্র বা দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক মতবিরোধ, সংঘর্ষ বা বিচ্ছেদের সম্ভাবনা দেখা দেয় ।
3. ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা: রক্তপাত, দুর্ঘটনা, আগুন বা অস্ত্রজনিত আঘাতের ঝুঁকি থাকে ।
4. কর্মজীবনে সংগ্রাম: পেশাগত ক্ষেত্রে বাধা, চাকরি বা ব্যবসায় অস্থিরতা এবং হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতি হতে পারে ।
5. নেতিবাচক প্রভাব: এটি কখনো কখনো অবৈধ সম্পর্কের দিকে চালিত করে এবং অতিরিক্ত যৌন আসক্তি বাড়াতে পারে ।
অঙ্গারক যোগ প্রতিকার:----------------
1. হনূমানজীর পূজা: নিয়মিত হনুমান চালিসা পাঠ করা এবং হনুমানজীকে সিঁদুর নিবেদন করা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার ।
2. গণেশ পূজা: গণেশের পূজা করলে এই যোগের নেতিবাচক প্রভাব কমে ।
3. শিব পূজা: শিবের আরাধনা করলে রাহু ও মঙ্গলের ক্ষতিকারক প্রভাব প্রশমিত হয়।
4. মন্ত্র জপ: "ওঁ অং অঙ্গারাকায় নমঃ" মন্ত্র জপ করা উপকারী।
5. মধু খাওয়া: প্রতিদিন সকালে মধু খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা রাহু ও মঙ্গলের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সাহায্য করে ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি সাধারণ জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা। যেকোনো প্রতিকার গ্রহণের পূর্বে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়া উচিত ।
