পুরাণ মতে একবার ভগবান ব্রহ্মা এতটাই দাম্ভিক হয়ে উঠেছিলেন যে নিজ দায়িত্ব পালণ করা থেকে বেশিরভাগ সময়ই বিরত থাকতেন। তাঁর
মনে হতে শুরু হয়েছিল যে তিনিই সর্বশক্তিমান। তাই যাই করুন না কেন কেউ তাঁর কিছু করতে পারবে না। ত্রিশক্তির অন্যতম, ভগবান ব্রহ্মার এমন দম্ভ দেখে অবাক দেবাদিদেব সিদ্ধান্ত নিলেন সময় থাকতে থাকতে যদি ব্রহ্মার দম্ভের বিনাশ করা না যায়, তাহলে সমূহ বিপদ।
এমনটা ভাবতে ভাবতে নীলকষ্ঠ এতটাই রেগে গেলেন যে তাঁর ক্রোধ থেকে জন্ম নিল এক রুদ্র অবতার। কাল ভৈরব। দেবের ভয়াল-বিকট এই রূপই অবশেষে তার আঙ্গুলের নখের আঘাতে ব্রহ্মার পাঁচ মাথার একটা মাথা চ্ছেদ করে তাঁকে শিক্ষা দিয়েছিলেন যে দম্ভের ফল কেবল বিনাশ হয়, কেবল বিনাশ।
কাল ভৈরবের হাত থাকে ব্রহ্মার সেই মুন্ডের খুলি। তাই তো কোনও কোনও প্রাচীন বইয়ে তাঁকে "ব্রহ্মা কল্পা" নামেও ডাকা হয়ে থাকে।এরপর মহাদেবের নির্দেশে কালভৈরব ব্রহ্মার পঞ্চম মস্তক ছেদনের পাপ হতে মুক্তিলাভের জন্য কাশীধামে যান এবং পরবর্তীতে ভগবান শঙ্কর বাবা কালভৈরবকে কাশীর রক্ষাকর্তা নিয়োগ করেন। কাশীধামে বাবা বিশ্বনাথের মন্দির দর্শনের ক্ষেত্রে বাবা কালভৈরবের দর্শন গুরুত্বপূর্ণ নচেৎ পূজো অসম্পূর্ণ থাকে।
প্রসঙ্গত, দেবের কাল ভৈরব রূপের শরীরে কোনও বস্ত্র থাকে না আর তাঁর বাহন হল কালো কুকুর। তাই তো এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে নিয়মিত কালো কুকুরকে খাবার খাওয়ালে কাল ভৈরব বেজায় খুশি হন এবং নানাবিধ সুফল মিলতে সময় লাগে না।
কালভৈরবের পুজো বা সাধনা করলে মনে থেকে-ভয়ভীতি সব চলে যায়, দুঃখ-হতাশা বিনাশ হয়,আশানুযায়ী ধনরাশি প্রাপ্তি হয়,যে কোনো ছোটো-বড় রোগব্যাধী দুরে সরে যায়, কাছে আসেনা,
যে কোন বড় শত্রুও বশ্যতা স্বীকার করে নাহলে বিনাশ হয় ভূত, প্রেত, পিশাচ বা অপশক্তির কোনো ভয় থাকে না,উপাসকের উপর কোনো তন্ত্রক্রিয়ার অভিচার সম্পন্ন হয় না,প্রচন্ড সাহস ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়,গ্রহদোষ ও কেতুর কোনো অশুভ প্রভাব নষ্ট হয়ে গিয়ে কেতুর শুভদৃষ্টি আনুকূল্য প্রাপ্তি হয় এবংশনির সাড়ে-সাতি কেটে যায়।কালভৈরবের আরাধনা যাঁরা করেন, তাঁরা সব সংকট থেকে মুক্তি পান বলেও মনে করা হয়।
দেবরাজ সেব্যমান পাবনাঙ্ঘ্রি পঙ্কজং
ব্যালয়জ্ঞ সূত্রমিন্দু শেখরং কৃপাকরম্ ।
নারদাদি যোগিবৃন্দ বন্দিতং দিগম্বরং
কাশিকা পুরাধিনাথ কালভৈরবং ভজে॥ ১॥
ভানুকোটি ভাস্বরং ভবাব্ধিতারকংপরং
নীলকণ্ঠম্ ঈপ্সিতার্থ দায়কং ত্রিলোচনম্ ।
কালকালম্ অম্বুজাক্ষম্ অক্ষশূলম্অক্ষরং
কাশিকা পুরাধিনাথ কালভৈরবং ভজে॥২॥
শূলটঙ্ক পাশদণ্ড পাণিমাদি কারণং
শ্যামকায়ম্ আদিদেবম্ অক্ষরং নিরাময়ম্ ।ভীমবিক্রমং প্রভুং বিচিত্রতাণ্ডবপ্রিয়ং
কাশিকা পুরাধিনাথ কালভৈরবং ভজে ॥৩॥
ভুক্তিমুক্তিদায়কং প্রশস্তচারুবিগ্রহং
ভক্তবৎসলং স্থিতং সমস্তলোকবিগ্রহম্ ।
বিনিক্বণন্ মনোজ্ঞহেমকিঙ্কিণী লসৎকটিং
কাশিকা পুরাধিনাথ কালভৈরবং ভজে ॥৪॥
ধর্মসেতুপালকং ত্বধর্মমার্গনাশকং
কর্মপাশ মোচকং সুশর্মদায়কং বিভুম্ ।স্বর্ণবর্ণশেষপাশ শোভিতাঙ্গমণ্ডলং
কাশিকা পুরাধিনাথ কালভৈরবং ভজে ॥ ৫॥
রত্নপাদুকা প্রভাভিরাম পাদয়ুগ্মকং
নিত্যম্ অদ্বিতীয়ম্ ইষ্টদৈবতং নিরঞ্জনম্ ।মৃত্যুদর্পনাশনং করাল়দংষ্ট্রমোক্ষণং
কাশিকা পুরাধিনাথ কালভৈরবং ভজে ॥৬॥
অট্টহাস ভিন্নপদ্মজাণ্ডকোষসন্ততিং
দৃষ্টিপাতনষ্টপাপ জালমুগ্রশাসনম্ ।অষ্টসিদ্ধিদায়কং কপাল মালিকন্ধরং
কাশিকা পুরাধিনাথ কালভৈরবং ভজে ॥৭॥
ভূতসঙ্ঘনায়কং বিশালকীর্তিদায়কং
কাশিবাসলোক পুণ্যপাপশোধকং বিভুম্ ।নীতিমার্গকোবিদং পুরাতনং জগৎপতিং
কাশিকা পুরাধিনাথ কালভৈরবং ভজে ॥৮॥
কালভৈরবাষ্টকং পঠন্তি য মনোহরং
জ্ঞানমুক্তিসাধনং বিচিত্রপুণ্যবর্ধনম্ ।
শোক মোহ দৈন্য লোভ কোপ তাপ নাশনংতে প্রয়ান্তি কালভৈরবাঙ্ঘ্রি সন্নিধিং ধ্রুবম্ ॥৯॥
ইতি শ্রীমদ্ শঙ্করাচার্যবিরচিতং কালভৈরবাষ্টকং সম্পূর্ণম্ ॥