কাক ভুষুন্ডি বিখ্যাত নিজের পান্ডিত্য, রাম ভক্তি ও ১১ বার রামায়ণ ও ১৬ বার মহাভারত দেখার জন্য বিভিন্ন কল্পে।
তিনি জন্ম নেন অযোধ্যায় মনুষ্য যোনিতে। অযোধ্যায় দুর্বিক্ষ দেখা দিলে ভুষুন্ডি উজ্জয়নে যান ও এক গুরুর সেবা করে দিন যাপন করতে থাকেন। তার গুরু মহাদেব ও বিষ্ণুকে সমান ভক্তি করতেন ও কাক ভুষুন্ডিকেও রাম নাম যপ করার উপদেশ দেন, কিন্তু সে ছিল কট্টর শৈব, অথচ বিষ্ণু বিরোধী। একদিন মহাদেবের সাধনারত অবস্থায় তার গুরু তার নিকটে আসে কিন্তু ভুষুন্ডি তার গুরুর বিষ্ণু ভক্তির জন্য তাকে দেখেও না দেখার ভান করে মহাদেবের নাম জপ করতে থাকে। তার গুরু এই ঘটনাটি এড়িয়ে গেলেও পরমেশ্বর রুষ্ট হন ও আকাশবাণীর মাধ্যমে বলেন "হে পাতক, তোর এতো বড় আস্পর্ধা তুই নিজের গুরুকে অবহেলা করিস? গুরুকে দর্শন করেও অজগর সাপের মতো স্থির বসে থাকিস? তোকে অভিশাপ দিচ্ছি তুই অজগর হয়ে জন্মাবি ও ১০০০ পশু যোনিতে ঘুরে কালচক্রের ঘোর বেদনা ভোগ করবি।"
গুরু এই কথা শুনে মহাদেবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তৎক্ষণাৎ মহাদেবের প্রশংসায় একটি সুমধুর স্তুতি রচনা করেন যা শ্রী তুলসীদাস রামচরিতমানসের উত্তর কাণ্ডে বর্ণিত করেন।
মহাদেব এই সুমধুর স্তুতিতে অতীব প্রসন্ন হয়ে দর্শন দেন ও বর দিতে চান। সেই গুরু মহাদেবের কাছে ভক্তি ও শিষ্যের জন্য ক্ষমা চান। মহাদেব তখন সেই অভিশাপকে বরদানে রূপান্তরিত করে বলেন "তোমার শিষ্য কালচক্রে পশু যোনিতে জন্ম নেবে কিন্তু মৃত্যুর যন্ত্রনা থেকে বিরত থাকবে ও এক সময় শ্রী রামের ভক্তি লাভ করবে।"
এভাবে তিনি কল্পান্তরে এক জন্মে কাকের রূপ লাভ করে ও সেই জন্মে প্রভু শ্রী রামের দর্শন লাভ করে বরদান পান যে কালচক্র কোনোদিন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না ও সৃষ্টির অন্ত পর্যন্ত তিনি অখণ্ড রাম ভক্তি লাভ করবেন।
কাক রূপে এই বরদান পাওয়ায় তিনি কাকই থেকে যান ও পশু যোনি থেকে মুক্তি পান।
রুদ্রাষ্টকম একটি অতীব সুমধুর মহাদেবের গুণগান স্তুতি যার পাঠ বা শ্রবণ মাত্র জীবের পাপমোচন, সাপমুক্তি হয় ও মন অসীম প্রশান্তি লাভ করে।
রুদ্রাষ্টকম্
নমামীশমীশান নির্বাণরূপং
বিভুং ব্য়াপকং ব্রহ্মবেদ-স্বরূপম্ ।
নিজং নির্গুণং নির্বিকল্পং নিরীহং
চিদাকাশ-মাকাশবাসং ভজেঽহম্ ॥ 1 ॥
নিরাকারমোংকারমূলং তুরীয়ং
গিরাজ্ঞানগোতীতমীশং গিরীশম্ ।
করালং মহাকালকালং কৃপালুং
গুণাগার-সংসারপারং নতোঽহম্ ॥ 2 ॥
তুষারাদ্রি-সংকাশগৌরং গভীরং
মনোভূতকোটি-প্রভাসী শরীরম্ ।
স্ফুরন্মৌলিকল্লোলিনী চারুগংগা
লসদ্ভাল-বালেংদু কংঠে ভুজংগম্ ॥ 3 ॥
চলত্কুংডলং শুভ্রনেত্রং বিশালং
প্রসন্নাননং নীলকংঠং দয়ালুম্ ।
মৃগাধীশ-চর্মাংবরং মুংডমালং
প্রিয়ং শংকরং সর্বনাথং ভজামি ॥ 4 ॥
প্রচংডং প্রকৃষ্টং প্রগল্ভং পরেশং
অখংডং ভজে ভানুকোটিপ্রকাশম্ ।
ত্রয়ী-শূল-নির্মূলনং শূলপাণিং
ভজেঽহং ভবানীপতিং ভাবগম্যম্ ॥ 5 ॥
কলাতীত-কল্য়াণ-কল্পাংতকারী
সদা সজ্জনানংদ-দাতা পুরারী ।
চিদানংদ সংদোহমোহাপহারী
প্রসীদ প্রসীদ প্রভো মন্মথারী ॥ 6 ॥
ন যাবদুমানাথ-পাদারবিংদং
ভজংতীহ লোকে পরে বা নরাণাম্ ।
ন তাবত্সুখং শাংতি সংতাপনাশং
প্রসীদ প্রভো সর্বভূতাধিবাসম্ ॥ 7 ॥
ন জানামি যোগং জপং নৈব পূজাং
নতোঽহং সদা সর্বদা দেব তুভ্যম্ ।
জরা-জন্ম-দুঃখৌঘতাতপ্যমানং
প্রভো পাহি শাপান্নমামীশ শংভো ॥ 8 ॥
রুদ্রাষ্টকমিদং প্রোক্তং বিপ্রেণ হরতুষ্টয়ে ।
যে পঠংতি নরা ভক্ত্য়া তেষাং শংভুঃ প্রসীদতি ॥ 9 ॥
॥ স্বস্তি শ্রীরামচরিতমানসে উত্তরকাংডে শ্রীগোস্বামি তুলসীদাসকৃতং শ্রীরুদ্রাষ্টকং সংপূর্ণম্ ॥