মলমাস বা অধিকমাস বা 'পুরুষোত্তম মাস'
হিন্দু শাস্ত্র ও পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মল মাস বা অধিক মাসের ধারণা দিয়েছেন স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু (পুরুষোত্তম)। পৌরাণিক কাহিনি মতে, ঋষি মুনিরা যখন অতিরিক্ত মাসের কোনো দেবতা না থাকায় চিন্তিত ছিলেন, তখন ভগবান বিষ্ণু এই মাসটিকে নিজের নাম 'পুরুষোত্তম মাস' দিয়ে দেবতাদের ঈশ্বর হিসেবে সম্মানিত করেন, যা পরে মল মাস হিসেবে পরিচিতি পায়।
মল মাস সম্পর্কে কিছু মূল বিষয়:-------
1. কেন হয়: চান্দ্র বছর (354 দিন) এবং সৌর বছরের (365 দিন) মধ্যে 11 দিনের পার্থক্য দূর করতে প্রতি 3 বছর অন্তর এই অতিরিক্ত মাস যোগ করা হয়--যে 11 দিনের ব্যবধান থাকে, তা সমন্বয় করার জন্য তাঁরা প্রতি তিন বছর অন্তর একটি অতিরিক্ত মাস যুক্ত করার নিয়ম তৈরি করেন ।
2. পৌরাণিক কাহিনি: হিরণ্যকশিপু বরের মাধ্যমে অমরত্ব চেয়েছিল যে তাকে 13 মাসের কোনোটিতেই মারা যাবে না।
তাই ব্রহ্মা এই অতিরিক্ত বা 13 মাসের সৃষ্টি করেছিলেন, যাতে তাকে বধ করা সম্ভব হয় ।
3. নিয়ম: এই মাসে কোনো শুভ কাজ (বিবাহ, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশ) করা হয় না, কারণ এই মাসটি সূর্য সংক্রান্তি বর্জিত ।
4. মাহাত্ম্য: এই মাসে দান, ধ্যান ও পূজার ফল কোটি গুণ বেশি পাওয়া যায় বলে মনে করা হয় ।
১৪৩৩ বঙ্গাব্দে (যা 2026-2027 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পড়বে) জ্যৈষ্ঠ মাসটি মলমাস বা অধিকমাস হবে ।
সাধারণত চান্দ্র ও সৌর বছরের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে প্রতি 3 বছর অন্তর একটি অতিরিক্ত মাস যুক্ত হয়, যাকে হিন্দু পঞ্জিকা মতে মলমাস বা অধিকমাস বলা হয় । মলমাসে সাধারণত কোনো শুভ কাজ বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় না ।
চান্দ্র ও সৌর বছরের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে প্রতি প্রায় তিন বছর অন্তর একটি অতিরিক্ত মাস হিসেবে এই মলমাস বা "পুরুষোত্তম মাস" যুক্ত করা হয়, যা সাধারণত অশুভ বা বর্জিত সময় হিসেবে গণ্য হয় ।
১৪৩৩ বঙ্গাব্দ: জ্যৈষ্ঠ মাস (মলমাস)(17th May 2026- to- 15th June 2026)
বর্জিত কাজ: বিবাহ, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশ ইত্যাদি ।
করণীয়: পূজা-অর্চনা, তীর্থযাত্রা ।